প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
জি.এম. সরওয়ার জাহানের " ম্ব & হাজব্যান্ড" সমাচার
প্রকাশঃ
কুটুম মানে আত্মীয়। এবার কুটুমের 'ম' এর সাথে 'ব' ফলা যোগ করুন। কি পেলেন? আত্মীয়ই তো! কুটুম মানেও আত্মীয়, কুটুম্ব মানেও আত্মীয়। কদম ফুল চিনিনা এমন লোক বিরল। বর্ষার প্রথম কদম ফুল নিয়ে কত ধরণের পোষ্ট আসে ফেসবুকে! এখানেও ম এর জায়গায় ম্ব সংযুক্ত করে কদম্ব করলেও অর্থের কোন হেরফের হয়না। অর্থ যতই এক থাকুক কদম্ব ফুল নিয়ে কেউ পোষ্ট দেয়না, দেয় কদম ফুল নিয়ে।
নিত অর্থ নিত্য। এখানে নিত'র সাথে ম্ব যোগ করে যা পাবেন তার সাথে নিত্য'র কোন সম্পর্কই নাই। নিতম্ব অর্থ দুইটা। একটা পশ্চাতদেশ অন্যটা সানুদেশ। সানুদেশে যেতে চাইলে গিরির উপরিভাগে আরোহন অত্যাবশ্যক!
বিল অর্থ স্রোতহীন জলাশয়। এখানেও কোন মিল পাবেন না যখন ম্ব যুক্ত করে বিল কে বিলম্ব করে দেবেন! যতই তাড়াহুড়া করেন না কেন দেরী করলে বিলম্ব হবেই হবে! সুতরাং যা করবেন তা অনতিবিলম্বেই করুন! দাড়ি সবাই চিনি। চাপ দাড়ি, লম্বা দাড়ি, কাঁচাপাকা দাড়ি কিন্তু দাড়ির সংগে ম্ব যুক্ত করে দেখুন! দাড়িম্ব মানে যে ডালিম সেটা কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা! কল তো কল-ই ।
চটকল,পাটকল, ইঁদুর মারা কল, জলকল, কত রকমের কল! ম্ব'র আগে কল বসিয়ে দেখুন কি দাঁড়ায়! কলম্ব তাইতো! কলম্ব মানে কলম্বো, কলম্বাস, কিছুই নয়। একদম সোজা তীর কিংবা শর হয়ে যাবে নিমেষেই । কলম্ব মানে তীর শুধু তীরই নয় শাকের ডাঁটাও হয়! কুটুম এর 'ম'এর সাথে 'ব' ফলা যুক্ত করে, অথবা কদমের 'ম' এর সাথে 'ব' ফলা যুক্ত যেমন কুটুম্ব এবং কদম্ব করে অর্থ ঠিক রাখলেন তেমনি বিম এর 'ম' এর সংগে 'ব' ফলা যুক্ত করে বিম্ব যখনই করবেন অর্থের ফারাক হবে আকাশ পাতাল। হ্যাঁ বিম মানে কড়িকাঠ আর বিম্ব হচ্ছে ছায়া। যেমন শম অর্থ চিত্তের প্রশান্তি আর শম্ব হচ্ছে মুগুরের প্রান্তভাগে লাগানো লৌহ আবরণ।
অতএব 'ম্ব' সমাচার পড়িয়া শমকে শম্ব দ্বারা চূর্ণবিচূর্ণ করতঃ নিজের পায়ে নিজেই কুঠারাঘাত করে বসবেন না যেন!
এবার আসি হাজব্যান্ড সমাচার
হাসব্যান্ডের বাংলা যে কত, বলতে গেলে মাথাই নষ্ট হয়ে যাবার উপক্রম হবে। বিশ্বাস হয়না তো? বেশ তবে ডিকশনারি বের করুন আর আমার কথাগুলো মিলিয়ে নিন। শুধু স্বামী আর বর হলে কথাই ছিলনা। আচ্ছা না হয় পতি, প্রভু মেনে নিলাম। একেবারে খাস বাংলায় সোয়ামী,খসম,ভাতার তা-ও নাহয় মেনেই নিলাম।
কিন্তু আরও যে কত মানে আছে, আরও যে অনেক কিছুই মেনে নিতে বাধ্য হবেন তা কি জানেন? শয্যাসঙ্গী,শয্যাসহচর,জীবনসঙ্গী,জীবনবল্লভ,নাথ, দয়িত,অর্ধাঙ্গ ইত্যাদি অনেক কিছুরই মানে হাসব্যান্ড। তারপরেও কিন্তু হাসব্যান্ড এর মানে ফুরায়নি। এবারে যে প্রতিশব্দ গুলো আসছে তা দেখে রীতিমতো ভিরমি খাবার যোগাড় হবে আপনার আমার সবার ।
মাছ ভর্তা,শুটকি ভর্তা,কচুশাক ভর্তা ইত্যাদি কত ভর্তারই নাম জানি আমরা, খেয়েছিও কতশত । কিন্তু ভর্তা মানে যে হাসব্যান্ড সে কি স্বপ্নেও ভেবেছেন কখনো! ভাবুন বা না ভাবুন, বিশ্বাস করুন বা না করুন ভর্তা অর্থও স্বামী মানে হাসব্যান্ড। সুতরাং প্রিয় ওয়াইফগন ভর্তা খাবার আগে ভেবে নিবেন একবার! চমকের এটাই শেষ নয়।
আরও চমক অপেক্ষমাণ। সারাজীবন জেনে এসেছি আদমি/আদমী অর্থ মানুষ,আজ জানলাম আদমী কিংবা আদমি দুই-ই স্বামী অর্থাৎ হাসব্যান্ড। এই হাসব্যান্ড কোথায় এসে যে থামবে কে জানে? কৃষক, ক্ষেত্রী, হিসাব রক্ষক/হিসাবী রক্ষক মানেও যে হাসব্যান্ড সে কি সহজেই মেনে নিবেন আপনারা! কঠিন করে হলেও উপরের তিনটির অর্থও হান্ড্রেড পার্সেন্ট হাসব্যান্ড।
না মেনে উপায়ই নাই। ঠিক আছে সবই মেনে নিলাম। আপনাদের মত না হয় আমিও মেনেই নিলাম কিন্তু বিবাহ দেওয়া আর বিবাহ করা মানেও যে হাসব্যান্ড এটাও কি মেনে নিতে হবে? উপায় নেই গোলাম হোসেন এরাও হাসব্যান্ড! বিবাহ দেওয়াও হাসব্যান্ড, বিবাহ করাও হাসব্যান্ড। যেহেতু আমি বিবাহ করেছি, যদি আপনিও বিবাহ করে থাকেন, তবে ফর্মুলা অনুযায়ী বৈবাহিক সুত্রে আপনি, আমি উভয়েই হাসব্যান্ড..........! তেমনি এক হাসব্যান্ডের গল্প শুনুন আজ।
অনেকদিন আগের কথা......... বোধহয় ১৯৯০-৯১ এর দিককার ঘটনা হবে এটা। আমাদের বর্তমান এম,পি মহোদয় তখনকারও এম,পি। সেবারই ১ম এম,পি হলেন তিনি। খুবই ভাব তার সাথে। উনি কামালপুরের দিকে এলেই লাউচাপড়া স্কুলে আসতেন। আমিও সঙ্গ দিতাম প্রচুর।
উনার ছোট ভাই আমার স্কুল জীবনের বন্ধু। উনার ভাতিজা ভাগিনাদের সাথেও গলায় গলায় ভাব আমার। তাই এলাকায় এলেই ওদের পীড়াপীড়িতে সাথেই ঘুরতাম আমিও। সংগে থাকতেন আমার ম্যাডামও অন্তত বাড়ি যাওয়ার পথে। একদিন স্কুল ছুটির আগ মুহুর্তে এম,পি সাহেব এসে হাজির। আলাপ সালাপ চা বিস্কুট খেতে খেতে সন্ধ্যা হয় হয় অবস্থা। একসাথে রওয়ানা দিলাম বাড়ির দিকে।
আমার গ্রাম পার হয়ে উনাকে বিদায় দিতে মির্ধাপাড়া পর্যন্ত একসাথে এসে বিদায় নেয়ার জন্য দাঁড়ালাম। সাথে আমার গিন্নীও। বিদায় নেয়ার সময় আমার গিন্নীকে উনি বলছেন "আপনার বাড়ি কি হেড স্যারের বাড়ির সাথেই"? হ্যাঁ বোধক জবাব পাবার পর আবারও প্রশ্ন এম,পি সাহেবের, আপনি কি রোজ উনার সাথেই স্কুলে যান? এবারও জবাব দিলেন গিন্নী জ্বী স্যার।
এবার মোক্ষম প্রশ্ন করে বসলেন এম,পি সাহেব। "আপনি যে রেগুলার উনার সাথে মোটর সাইকেলে করে স্কুলে যান, আপনার হাসব্যান্ড কিছু মনে করেন না"? গিন্নী নিরুত্তর। লজ্জায় অধোবদন হয়ে রইলেন। সংগে সংগে উনার ভাগিনা বলে উঠলেন, মামা! আপনি জানেন না?
ভাবীতো মুকুল ভাই এরই ওয়াইফ! আমার মত নির্লজ্জও সেদিন লজ্জা পেয়েছিল বেশ খানিকটা, রীতিমত নব দম্পতির মত! ভাগ্যিস সেই মুহুর্তে আলাল ভাই উপস্থিত ছিল নইলে আমার মত নিরীহ হাসব্যান্ডকে রীতিমত ভর্তা বানিয়েই ছাড়তেন এম,পি মহোদয়..............!

Post a Comment
মতামত প্রকাশ করুন