ঢাকা
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

আ'জ কিংবদ'ন্তি সাহি'ত্যিক সৈ'য়দ মুজ'তবা আলী'র জন্ম'দিন

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

আহমাদ ইশতিয়াক:

দিন'টি ছি'লো সর'স্বতী পূজা'র দিন।   তিনি গঙ্গা'র ঘা'টে গিয়ে'ছিলেন গো'সল কর'বেন  তার'পর এক'টু হাঁট'বেন বলে।


বে'লা ১২'টা পেরি'য়েছে  হঠাৎ এ'ক বৃ'দ্ধা ম'হিলা  তাঁর ছো'ট্ট নাত'নী নি'য়ে তাঁর সা'মনে এসে  অত্য'ন্ত অনু'নয় করে বল'লেন, “বাবা, আমা'র বাড়ি'র পূজা'টা করে দাও'না, পুরো'হিত এখন'ও আসে'নি।  আমি পুরো'হিত খুঁজ'তে বেরিয়ে'ছি. বাচ্চাটা না খেয়ে অঞ্জ'লি দে'বে বলে ব'সে আ'ছে। সৈয়দ মুজ'তবা আলী পড়'লেন মহা মুশ'কিলে। 

যদিও  তিনি আচার নিয়ম জানতেন। আর অন্যদিকে বৃদ্ধার কাকুতি মিনতি।অবশেষে বৃদ্ধার অনুরোধ উপেক্ষা না করতে  পেরে  রাজি হলেন। গেলেন বৃদ্ধার  বাড়িতে।  বিশুদ্ধ সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণে, নিয়ম- পদ্ধতি মেনে  মুজতবা আলী সরস্বতী পূজা  করলেন। 

বাড়ির লোকজন এসব দেখে খুবই খুশি। তাঁদের পূজা পালন হলো। ভালোভাবে অ্যাপায়িত হয়ে পূজার দক্ষিণা নিয়ে মুজতবা  আলী  বিদায় নিলেন। কেউ ঘুনাক্ষরেও টের  পেলনা ইনি মুসলমান।

পরে  তিনি লিখেছিলেন সেই প্রসঙ্গে, 'জা'নিনা মা সর'স্বতী এ'ই বিধর্মী'র পু'জোয় অসন্তু'ষ্ট হলেন কি'না? তবে আ'শা করি তিনি উপো'সী বাচ্চাটি'র শুক'নো মুখে'র দিকে চে'য়ে এই অধম'কে ক্ষ'মা কর'বেন।'

এমনই দরদী আর মানবপ্রেমী ছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তাঁর পান্ডিত্য ছিলো আকাশচুম্বী।  আজীবন ছিলো জ্ঞানপিপাসু। ১৫টি ভাষা জানতেন নিজেই। 

তাঁর সরস রচনা, ভ্রমণ কাহিনী আর সৃষ্টকর্মের কথা তো বলেই শেষ করা যাবেনা। বাংলা সাহিত্যে সরস রচনায় সৃষ্টি করেছেন এক নবদিগন্ত। তাঁর লেখা প্রতিটা লাইন যেন অমীয় সুধা।

কিন্তু এতো দারুণ লেখা সত্বেও লেখায় ছিলো তাঁর ভীষণ অলসতা। লিখতেন ঠিকই কিন্তু বলতেন দায়ে পড়ে লিখি। নয়তো গাঁটে পয়সা থাকলে লিখবো কেন? লিখতে গিয়ে একটু লিখেই বসে পড়তেন। বলতেন এইসব লিখে কি হয়? 

শান্তি নিকেত'নে আশ্রমে'র প্রথম'দিকের ছাত্র ছি'লেন সৈয়দ মুজ'তবা আ'লী। আ'জীবন ছিলেন অ'বিশ্বাস্য রকম রবীন্দ্র অনুরাগী। রবীন্দ্রনাথই ছিলো তাঁর একমাত্র আশ্রয়। 

তাঁর চাকরি'জীবন শুরু হয়ে'ছিলো আফগানিস্তানে'র কাবুলে'র কৃষি'বিজ্ঞান কলে'জে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষা'র প্রভা'ষক হি'সেবে। পরে ১৯৩৪ সালে  বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হলেন। এরপর শেষ দিকে এলেন শান্তিনিকেতনে।  

বিশ্বভারতীর ইসলামের ইতিহাস বিভাগে রিডার  হিসেবে যোগ দিলেন। সেখান থেকেই ১৯৬৫ সালে অবসর নিলেন। কিন্তু মৃত্যুপূর্ব পর্যন্ত ছিলো তাঁর জ্ঞানসুধা আর লেখালেখি‌। 

আ'জ কিংবদ'ন্তি সাহি'ত্যিক সৈ'য়দ মুজ'তবা আলী'র জন্ম'দিন। বি'নম্র শ্রদ্ধা জা'নাই তাঁর প্রতি। 

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন

মতামত প্রকাশ করুন