ঢাকা
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

ইসলামপুরে ব্রক্ষপুত্র নদের ব্যাপক ভাঙ্গন; আতংকে নদী পাড়ের মানুষ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

ইসলামপুর প্রতিনিধিঃ  

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় গত কয়েক দিনে ভারী বর্ষণে ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা ও ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইসলামপুর উপজেলার ৯ নং গোয়ালের চর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, চর মোহাম্মদপুর, সভারচর গায়েন পাড়া ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ওইসব ভাঙ্গন এলাকায় ২শত বসতির তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

জানা গেছে, উপজেলার ইসলামপুরের ৯ নং গোয়ালেরচর ইউনিয়নের ব্রক্ষপুত্র নদী থেকে শুষ্ক মৌসুমে ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে যত্রতত্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বর্ষা মৌসুমে নদীর তলদেশ ঘূর্ণবর্তার সৃষ্টি হয়। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ বছর তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মোহাম্মদপুর পশ্চিম পাড়ার মোঃ বাদশা আলী, মজিবর, জমশের, ওয়াজেদ, ছায়েদ, সামাদ, মমতাজ, ইসমাইলসহ প্রায় ২ শতাধিক পরি'বার নদী ভা'ঙ্গন এলা'কা থেকে ইউ'নিয়নের বি'ভিন্ন আ'ত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। 

ভাঙ্গন কবলিত এলাকার দুলাল দেওয়ান জামালপুর দর্পণকে জানান, নদী ভাঙ্গনের ফলে এলাকার অনেকেই ঘরবাড়ি অন্যত্র নিয়েছে। আমার বাড়িও হয়তো সরাইতে হবে। ভাঙ্গন এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় জনপদ, রাস্তা-ঘাট, মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদপুর বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সভারচর মাদরাসা ভাঙ্গনে আতংকে রয়েছে এলাকাবাসী। 

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা মোঃ মোশাররফ হোসাইন জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে আরো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নিকট জানাইতে চাই, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী যেন তাড়াতাড়ি নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 

ভাঙ্গন কবলিত এলাকার একদল মহিলারা জানান, গত ২ মাস আগে আপনারা আসছিলেন, আমাদের ঘরবাড়ি এখন  নদীতে চলে গেছে, এখন আমাদের থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে।  

আলেছা, সাহেরা, রোকেয়া, লাকী আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা শুধু নদী ভাঙ্গনের ছবি তুলে নিয়ে যান, তাতে আমাদের কোন কাজ হয় না। 

ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রতি বছরই পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন শুরু হয়। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে বিস্তীর্ণ এলাকা নদের গর্ভে বিলীন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ জন্য নদী পাড়ের বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু ছাইদকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ৪ নং চর ও যমুনা ভাঙ্গন নিয়ে কাজ করছি, গোয়ালের চর নদী ভাঙ্গনের কাজ পর্যায় ক্রমে করতে হবে। 

অপর দিকে জামালপুর পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগষ্ট রাত ৯ টা থেকে ২৯ আগষ্ট সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনার পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে যমুনার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন

মতামত প্রকাশ করুন