ঢাকা
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

নাকাটি এলাকার শম্পার পরিবারের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-
মোঃ সাইদুর রহমান সাদী ॥

জামালপুর সদর উপজেলার ১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি গ্রামের ভ্যানচালক শিশু শম্পার অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও তার পরিবারের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বুধবার জামালপুর সদরের নাকাটি গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শম্পা দুর্ঘটনায় আহত তার ভ্যানচালক বাবা শফিকুল ইসলাম ভাসানীর চিকিৎসাসহ সংসারের খরচ মেটানোর জন্য ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসলে শম্পার লেখাপড়া, পরিবারের ভরণ-পোষণ ও তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি। গত বুধবার সকালে জামালপুরের ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি পৌঁছে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদরের ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন, কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মাহবুবুর রহমান মঞ্জু, স্থানীয় ইউপি সদস্য সৈয়দুর রহমান সরকার প্রমুখ। অসহায় এই পরিবারটির থাকার জন্য একটি ঘর তৈরির কাজ শুরু করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শফিকুল ইসলাম ভাসানীর সুচিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে ভ্যানচালক শিশু কন্যা শম্পার অসুস্থ বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের জন্য একটি ঘর ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘরের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন ডিসি এনামুল হক ও ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য এবং দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়। এর আগে শম্পার ভ্যান চালানোর বিষয়টি নজরে পড়লে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে খবর নেন ডিসি মোহাম্মাদ এনামুল হক। গত সোমবার সকালে সরেজমিনে সদর উপজেলার নাকাটি গ্রামে শম্পাদের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান তিনি। এ সময় সদর ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সঙ্গে ছিলেন। সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউপির নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী শম্পা দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে বাবার চিকিৎসা করছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ সুরুজ্জামান বলেন, সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউপির নাকাটি গ্রামের ভ্যানচালক শিশু শম্পার পরিবারের সব দায়-দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। এখানেই ব্যতিক্রম তিনি। এটিই তার স্পেশালিটি। ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সদর উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির খবর নিয়ে আজ তাদের বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে এ কাজের তদারকি করা হবে। ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে আজ তাদের বাড়ি গিয়ে ভরণপোষণ, চিকিৎসার ব্যয়সহ ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শম্পার বাবার চিকিৎসাসহ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে শিশু শম্পা বলে, “আমি আর ভ্যান চালাব না। এখন আমি লেখাপড়া করব। “এখন আর আমার চিন্তা নাই। চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।” প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বিগত দিনের কষ্টের কথা মনে পড়ে যায় শম্পার মা নবুজা বেগমের। তিনি বলেন, “গত ৬ বছরে কোনো ঈদে শম্পার মুখে সেমাই তুলে দিতে পারি নাই। ঠিকমত খাবারও দিতে পারি নাই। “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি এতই আনন্দিত হয়েছি যে এখন কথা বলতে পারছি না। কীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।” তাদের জন্য পাকা ঘর বানাতে ইতোমধ্যে নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছে উঠোনে। সেসব দেখিয়ে নবুজা বেগম বলেন, “বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট আসছে। বাড়ি তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। যা আমি জীবনে কল্পনা করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের অসহায় পরিবারগুলো ভালো আছে।”
শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন

মতামত প্রকাশ করুন