ঢাকা
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

সরিষাবাড়ির শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুলের গ্রেফতার এখন সময়ের দাবী

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সরিষাবাড়ির শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুলের গ্রেফতার এখন সময়ের দাবী। জানা যায়, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার মাজালিয়া গ্রামের জনৈক মোকছেদ আলী কেরানীর ছেলে টেম্পু নজরুল ইসলাম ওরফে নজুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক বাণিজ্য, নারী অপহরণসহ চুরি-ডাকাতির বিস্তর অভিযোগ ও মামলা বিচারাধীন থাকার পরও আইনের শাসনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে নির্বিঘেœ তার কুকর্ম চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।  তার ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ না খোলায় তার শত শত অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যেত। তথাপি দিনের পর দিন তার অপরাধের মাত্রা বহুগুণে বেড়ে গেলে তার অত্যাচারের ভয়কে অসীম সাহসীকতার সাথে জয় করে যারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইনের আশ্রয় চেয়েছেন তাদের দায়েরকৃত মামলা ও অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, বিগত ৬ এপ্রিল ২০১৯ইং তারিখে সরিষাবাড়ি আমলী আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি নন জি.আর মামলা। যার নম্বর ২০/১৯, বিগত ১১ জুন ২০১৯ইং তারিখে সরিষাবাড়ি আমলী আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি নন জি.আর মামলা। যার নম্বর-৩৪/১৯, বিগত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-৩৪৮/১৮ ও জেলা দায়রা জজ আদালত, জামালপুরের মামলা নং-৮৩৫/১৮, বিগত ২৫ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-২৫০৬/১৭ ও জেলা দায়রা জজ আদালত, জামালপুরের মামলা নং-৮৩/১৮, বিগত ৯ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি জি.আর মামলা। যার নম্বর-৫৯(২)১৮, বিগত ৪ মে ২০০৭ইং তারিখে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-১৫৮, বিগত ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-৩৭/১৪, বিগত ২৬ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-১০২১, বিগত ২০ জানুয়ারি ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-৫১/১৭, বিগত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-১৫০/১৭, বিগত ১৫ মে ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-৭৮৬/১৭, বিগত ১৫ মে ২০১৭ইং তারিখে জামালপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-১৪৭/১৭, বিগত ২০ জানুয়ারি ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি নন এফআইআর প্রসিকিউশন। যার নম্বর-০৭/১৭, বিগত ৩ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি নন এফআইআর প্রসিকিউশন। যার নম্বর-৮৮/১৭, বিগত ১৯ জানুয়ারি ২০০১ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-৯১৯, বিগত ১৩ মে ২০০৬ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-১৮, বিগত ২০০১ইং সালে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-১১০৬(২), বিগত ১১ জুলাই ২০০৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-১৫, বিগত ২০০৭ইং সালে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-১৯৫(১), বিগত ১ আগস্ট ২০০৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-৪৯, বিগত ৫ আগস্ট ২০০৭ইং তারিখে জামালপুর কগনিজেন্স আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি মামলা। যার নম্বর-৩৪৯ এবং বিগত ১৫ জুলাই ২০০৭ইং তারিখে সরিষাবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একটি অভিযোগ। যার নম্বর-৮৮৩/৭। এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুল ইসলাম ওরফে নজুর অপরাধের যেন সীমা পরিসীমা নেই। তার অপরাধের ফিরিস্তি অনেক লম্বা আর লোমহর্ষক। তথাপি যতোটা জানা গেছে তা হলো, তার অপরাধ জীবনের শুরু হয় ছিচকে চুরির মাধ্যমে। সেসময় নজু মাজালিয়া বাজার থেকে রামপুরের মফিজ বেপারীর কাপড়ের গাট্টি চুরি করে। চাপারকোনার আব্দুস সোবহান খানের বাড়িতে ডাকাতি করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সে মামলায় ৩নম্বর আসামি নজু। হরখালি হোসেন সরকারের মেশিন ঘরে চুরি। সেই চুরির মামলায় ১নং আসামি। ভিখারির টাকা ছিনতাই করতেও দ্বিধা করেনি কুলাঙ্গার নজু, শুধু তাই নয়, সেই টাকায় মদের আসর বসিয়ে সে নিকৃষ্টতার নজীর স্থাপন করেছে বটে। যুবলীগ নেতা দারাগ আলীর হাতকাটায় পরিকল্পনাকারী হিসেবে সে মামলায় নজু ৩ নম্বর আসামি। স্কুল ছাত্রী অপহরণ মামলার ২ নম্বর আসামি। এমনকি পল্লী বিদ্যুতের কাঠ চুরি করে তার ঘরে রোয়া-শারক তৈরি করে এই চোরা নজু। রামপুরে টুকরি ও পাইছাওয়ালা দিনমজুরদের টাকা ছিনতাই করতেও ওর বিন্দুমাত্র মায়া লাগে নাই। হাসড়া মাজালিয়ায় আমির মাঝিদের মারধর ও মেশিন চুরির মামলায় নজু প্রধান আসামি। তসু মন্ডলের মেয়েদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ঘর দখল করে নজরুল। নূরুল ইসলাম আকন্দের বৃদ্ধ পিতাকে বাড়ি থেকে গরুসহ তাড়িয়ে দিলে বাধ্য হয়ে গরুসহ বয়ড়া মোল্লা বাড়িতে আশ্রয় নেয়। শুধু তাই নয় নুরুল ইসলাম আকন্দের বৃদ্ধ পিতাকে জামা-কাপড় খুলে পৌষ মাসের শীতের মধ্যে পুকুরের পানিতে নামায়। পরে আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে। মাজালিয়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে নূরুল ইসলাম আকন্দের বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করে আর নূরুল ইসলাম আকন্দের বৃদ্ধা মাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে। বাউসি পপুলার জুটমিলে চাকরি দেয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে। মাজালিয়ার হবির ভগ্নিপতির টাকা ছিনতাই করে এই নজু। মাজালিয়ার দানেছের কাঠ চুরি করে পুকুরে রাখে এবং ধরা পড়ে। মাজালিয়া বাজার থেকে হাকিম ডিলারের রড চুরি করে ঘোনাবাড়ি ডোবাতে রাখে এবং ধরা পড়ে। হযরত মেম্বারের বাড়ি লুট করে আসবাবপত্র তার বাড়িতে আনে আর খাসি জবাই করে খায়। ইউপি নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার শামীমকে মারধর করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় নজরুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। বিএনপির ক্যাডার এরশাদ ও সফির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে লিয়াকত আলী মোল্লার ঠিকাদারি কাজের সাইট থেকে বিটুমিনের ড্রাম চুরি করে। নিজের অপরাধ ঢাকতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দিতে চাপারকোনা হাইস্কুল মাঠে পরিবারের অপরাপর সদস্যদের নিয়ে আনোয়ারুল কবির তালুকদারের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করে এবং শামীম তালুকদার ও হক চেয়ারম্যানের ক্যাডার হিসেবে এরশাদ এবং সফির সাথে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ২০০১ইং সালে এরশাদ ও সফিকে সাথে নিয়ে মাজালিয়া বাজারে নূরুল ইসলাম আকন্দ ও দারাগ আলীর মনোহারী দোকানের সম্পূর্ণ মালামাল লুট করে। এদিকে মাদক বাণিজ্য চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে এলাকার যুবসমাজের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। যার ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা চলমান আছে। তার নামে সরিষাবাড়ি থানায় বিভিন্ন অপরাধে অভিযোগ ও জামালপুর জেলা দায়রা জজ আদালতে বহু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ভূমিদস্যু হিসেবে নূরুল ইসলাম আকন্দের স্বত্ত্বদখলীয় খরিদকৃত ও পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ৯৭শতাংশ জমি জোরামূলে সন্ত্রাসী কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে আছে। তার কোনো মালিকানা বা কোনো প্রকার স্বত্ত্ব নাই। শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুলের ভয়ে নূরুল ইসলাম আকন্দ স্বাধীনভাবে বাড়িতে যেতে পারছে না এবং কি তার বৃদ্ধা মাতাকে সেবা করতে পাচ্ছে না বলেও জানা যায়। নূরুল ইসলাম আকন্দ জানান, তাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুল দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলার মাজালিয়া বিলপাড়া গ্রামের মৃত আছকের আলীর পুত্র মোঃ নূরুল ইসলাম আকন্দ জামালপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে গত ২৪ আগষ্ট ২০২০ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাননি। এতকিছুর পরও যখন এই অপরাধ জগতের মুকুটহীন স¤্রাট টেম্পু নজরুল অবৈধ মটরসাইকেলে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায় তখন দেশে আইনের শাসন বিদ্যমান আছে তা জনমনে প্রতীয়মান তো হয়ই না উপরন্তু অসন্তোষ বিরাজ করে। অনতিবিলম্বে এই শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু নজরুল ইসলাম ওরফে নজুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন

মতামত প্রকাশ করুন