ঢাকা
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাঃ

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

“প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূলভিত্তি”

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-
মন্তব্য প্রতিবেদন
“প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূলভিত্তি”
মোঃ রাশেদুর রহমান রাসেল
আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জ্ঞান। জ্ঞান অর্জিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে। প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূলভিত্তি। প্রাথমিক শিক্ষার মূলভিত্তিকে মজবুত করতে পারলে পরবর্তী শিক্ষা এ মজবুত ভিত্তির ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে। মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে শির উঁচু করে টিকে থাকতে পারব। তাই যতদিন কাঙ্খিত প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন না হয় ততদিন আমাদের সবাইকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিরলস ভাবে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের দেশে এখন শুধু প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। যদিও পাসের হার জিপিএ ৫ ও গোল্ডেন জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার বাহ্যিক উন্নতি ইতোমধ্যে যথেষ্ট হয়েছে। সুন্দর সুন্দর ভবন নির্মিত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির হার আগের তুলনায় বেড়েছে, কমেছে ঝরেপড়ার হার। প্রাথমিক শিক্ষায় সমাপনী পরীক্ষার পাসের হার প্রায় শতভাগ। প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারলেই ধরে নেয়া যায় শিক্ষার গুণগত মান কতটুকু উন্নতি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশি¬ষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা, শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি সবারই দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক, আবেগিক বিকাশ সাধন এবং দেশাত্মবোধ, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতা ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা এবং সব ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা উন্মেষে সহায়তা করা। ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা। সামাজিক ও সুনাগরিক হওয়ার গুণাবলি এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করা। ভালো-মন্দ পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া, পরমতসহিষ্ণুতা, ত্যাগের মনোভাব ও মিলেমিশে বাস করার মানসিকতা সৃষ্টি, নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা উপলব্ধি ও আত্মমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা। জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভালোবাসতে সহায়তা করা। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরেপড়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। দরিদ্রতার কারণে একজন অভিভাবক তার শিশুকে অর্থ উপার্জনের জন্য শিশুশ্রমে নিয়োজিত করেন। এখানে অবশ্য অভিভাবকের সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক শিশুর বাবার অকাল মৃত্যুতে সংসারের উপার্জনক্ষম অন্য কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিতে হয়। বিদ্যালয় থেকে এসব ঝরেপড়া শিশুদের দেখা মেলে সাইকেল মেকারের দোকানে, হোটেলের বয় হিসেবে, ছোট ছোট কারখানায়, কোনো চাষির বাড়িতে রাখাল হিসেবে, বাল্য বিয়ের ফলে স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হয় অথবা কোনো বাড়িতে গৃহকর্মীর চাকরি নেয়। বিদ্যালয়ে শিশুর অনুপস্থিতির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তার পারিবারিক সমস্যা, সামাজিকতা, অসুস্থতা ও অভিভাবকের অসচেতনতা। অনেক সময় একটি শিশুকে সংসারের বিভিন্ন কাজে বাবা-মাকে সাহায্য করতে হয়। বাবা-মার অসুস্থতায় তাদের সেবাযত্ন, ফসল কাটার মৌসুমে বাবাকে সাহায্য করতে হয়। কখনো কখনো বিশেষ কারণে ও শ্রমের বশবর্তী হয়ে শিশু আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনগুলোতে বিদ্যালয়ে খুব সামান্য সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণে প্রতিদিন কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। বিদ্যালয়বহির্ভূত পরিবেশে অনেক শিশু টিভি দেখতে ও খেলাধুলা দেখতে ভালোবাসে। শিক্ষার মান উন্নয়নে অন্যতম কার্যকর ব্যবস্থা হলো প্রতিটি বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করা। এক শিফটে বেশি সময় ধরে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় বলে দৈনিক শিখন শেখানো কার্যক্রম যথোপযুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিরাময় দান করার যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে এ সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম। এক শিফট চলে এমন বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ চালু রাখলে শিশুদের অনুপস্থিতি, সাময়িক ছুটি ও স্কুল পালানো কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অতএব বাংলাদেশে প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ চালু রাখার জন্য সরকারের কাছে সহায়তা ও কার্যকর দিকনির্দেশনা আমরা কামনা করি। বিদ্যালয়ের সময়সূচি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থাকলে শিশুদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। কারণ বর্তমানে শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক কম। শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অবসরজনিত কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। ফলে কাঙ্খিত মান উন্নয়ন সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সরকার যদি ওই পদগুলোতে আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্দিষ্ট ভাতার বিনিময়ে তাদের নিয়োগ দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করে দেয় তবে সুফল পাওয়া যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে মা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এ দুটি সমাবেশে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে মতবিনিময়ের ফলে শিক্ষার্থীর সমস্যা চিহ্নিত করে তা দূরীকরণ ও সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া যায়। শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়িতেও নিয়মিত পড়ালেখা করে, ছুটির দিনগুলো অযথা সময় নষ্ট না করে বাসার পড়াগুলো সম্পন্ন করতে পারে এ সম্পর্কে উপদেশ দেয়া যায়। মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত করার সমস্যাও আছে। সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকদের আপ্যায়ন করাটা প্রশংসনীয় হলেও আপ্যায়নের খরচ বাবদ বেশ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ ব্যাপারে সরকারি বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা খাটো করে দেখার উপায় নেই। তাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও র্কর্তব্য বেড়ে গেছে। ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য প্রধান শিক্ষক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। তিনি মাসে কমপক্ষে একবার মিটিংয়ের ব্যবস্থা করবেন। ম্যানুয়েলে উল্লে¬খিত ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনান্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। শিক্ষকদের আগমন ও প্রস্থান তারা লক্ষ করবেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ন্যায্য পাওনার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে দিনের পর দিন ঘোরাঘুরি না করেন বা হয়রানি না হন সে ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তারা আন্তরিক হলে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করতে পারেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাদের স্ব-স্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

শিরোনাম...

একটি মন্তব্য করুন

মতামত প্রকাশ করুন